টিভি ব্রেকিংঃ
ঝিনুক টিভির পক্ষথেকে সকল দর্শকদের জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা। ঝিনুক টিভি আসছে নতুন নতুন সব আয়োজন নিয়ে। পাশেই থাকুন
পাবনা চাটমোহরের সৌখিন মানুষ ও ঘুড়ি ব্যবসায়ীরা

পাবনা চাটমোহরের সৌখিন মানুষ ও ঘুড়ি ব্যবসায়ীরা

চাটমোহরের হরিপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মোকতার হোসেন প্রায় ৮ ফিট উচ্চতা বিশিষ্ট ঢাউশ ঘুড়ি তৈরী করে আকাশে উড়িয়ে উড্ডয়ন সক্ষমতা পরীক্ষা করছেন।

হরেক রকম রঙের ঘুড়ি যখন আকাশে হালকা বাতাসে ওড়ে, সুতায় টান পরলে হোচট খায়, টাল মাটাল ওঠা নামা করে, সুতোয় প্যাচ লেগে কেটে পালায়, কারো হাতে পরে তখন এসব দৃশ্য মানুষের অন্তরকে দোলা দিয়ে যায়। তাইতো অনেক কবি সাহিত্যিক তাদের অন্তরের অনুভূতি থেকে ঘুড়ি নিয়ে লিখেছেন কবিতা। তাদেরই একজন বিখ্যাত কবি আবুল হোসেন। তিনি তার ঘুড়ি কবিতায় লিখেছেন,

ঘুড়িরা উড়িছে বন মাথায়

হলুদে সবুজে মন মাতায়

গোধুলির ঝিকিমিকি আলোয়

লাল-সাদা আর নীল কালোয়

ঘুড়িরা উড়িছে হালকা বায়।

স্বভাব সুলভ ভাবে আনন্দ পেতে দীর্ঘ দিন যাবত হালকা বায়ে শিশু কিশোর থেকে বয়োবৃদ্ধরা পর্যন্ত ঘুড়ি উড়িয়ে আসলেও কোভিড-১৯ বিস্তার লাভ করায় গত বছর চাটমোহরের ১১ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার হাজার হাজার সৌখিন মানুষ বেশি করে ঘুড়ি উড়ানো শুরু করে। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে অনেকে ঘুড়ি তৈরী ও বিক্রি করে সংসারও পরিচালনা করেন। বৈশাখ-জৈষ্ঠ মাস ঘুড়ি উড়ানোর সবচেয়ে উপযুক্ত সময় বলে এবং এখনও কোভিড-১৯ এর বিস্তার ঘটায় ঘুড়ি তৈরীর কারিগররা বিক্রির উদ্দেশ্যে ঘুড়ি তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

চাটমোহর পৌর সদরের বালুচর মহল্লার মোহাইমিনুল হালিম জানান, করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে সারা দেশের মানুষের মতো পাবনার চাটমোহরের সচেতন মানুষ বাড়িতে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে গেছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ছাত্র ছাত্রীরা বাড়িতে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঘুড়ি উড়ানো যায় বলে গত বছর চাটমোহরের হাজার হাজার মানুষকে রকেট, ঢাউস, কোয়ারে, পরী, মানুষ, ডোল, চিলা, ফেসকাসহ নানা নাম আকার রঙের ঘুড়ি আকাশে উড়িয়ে প্রত্যহ আনন্দ উপভোগ করতে দেখা গেছে। এবছরও সবাই ঘুড়ি উড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেকে ইতিমধ্যে ঘুড়ি উড়ানো শুরু করেছেন।

চাটমোহর পৌরসভার আফ্রাতপাড়া মহল্লার বাসিন্দা ঘুড়ি প্রেমিক, সঙ্গীত শিক্ষক ও সাংবাদিক জামিউল ইসলাম কাবলী (৫০) জানান, “ঢাউস, কোয়ারে, ফেসক্যা, লন্ঠন, ঢোল, অক্টোপাস, বিমান, রকেট, সাপ, পরী, মানুষ, বিছা, মাছ, গোপালভার, পেঁচাসহ প্রায় ২০ রকমের ঘুড়ি রয়েছে আমার। গত বছর নিজেই ঘুড়ি গুলো তৈরী করেছিলাম। আশা করছি লক ডাউন শেষ হলে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে ঘুড়ি উড়ানো শুরু করবো।” তিনি আরো জানান, “ছোট বেলা থেকে ঘুড়ি উড়ানো আমার শখ। প্রায় এক যুগ আগে এ এলাকায় আমিই প্রথম ঘুড়িতে হরেক রঙের আলো লাগিয়ে রাতের আকাশে উড়াতাম। মনলোভা এ দৃশ্য দেখে এখন এ এলাকার সৌখিন মানুষেরা ঘুড়িতে বিভিন্ন রঙের আলো লাগিয়ে রাতে আকাশে উড়ান।”
উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের ডেকোরেটর ব্যবসায়ী মোকতার হোসেন কাজের অবসরে ঘুড়ি বানিয়ে বিক্রি করেন। তিনি জানান, আকার ভেদে এক একটি ঘুড়ি ৩শ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এসময়ে ঘুড়ি বানিয়ে বাড়তি আয় হয় বলেও জানান তিনি।

ডিএ জয়েন উদ্দিন স্কুলের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী হাসানাত ফেরদৌস পূণ্য জানায়, গত বছর বৈশাখ- জৈষ্ঠ্য মাসে রাতের বেলায় আলো সংযুক্ত শত শত ঘুড়ি আকাশে ওড়াতে দেখেছি। এ বছরও ঘুড়ি ওড়ানো শুরু হয়ে গেছে। ব্যাটারী সংযুক্ত বিভিন্ন রঙের আলোয় আলোকিত ঘুড়ি যখন রাতের আকাশে উড়ানো হয় তখন আকাশের দিকে তাকালে মনে হয় আকাশ অনেক নিচে নেমে এসেছে। ঘুড়ির আলো গুলো তারার মতো জ্বল জ্বল করে, কোনটি তার চেয়েও উজ্জ্বল হয়ে জ¦লে থাকে সারাক্ষণ। এসব দুশ্য দেখতে খুব ভাল লাগে আমার।

শেয়ার করুনঃ

Comments are closed.

© All rights reserved © 2020 | jhenuktv.com
Developed BY POS Digital