টিভি ব্রেকিংঃ
ঝিনুক টিভির পক্ষথেকে সকল দর্শকদের জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা। ঝিনুক টিভি আসছে নতুন নতুন সব আয়োজন নিয়ে। পাশেই থাকুন
করনায় লকডাউন এনজিওদের কিস্তি উওোলনে গ্রাহককে চাপ নীরাপওাহীনতায় মাঠকর্মী

করনায় লকডাউন এনজিওদের কিস্তি উওোলনে গ্রাহককে চাপ নীরাপওাহীনতায় মাঠকর্মী

দেশে চলছে ভয়াবহ করোনা ভাইরাসের থাবা। জনস্বাস্থ্য ও জনজীবন নিরাপদে রাখতে সরকার বাহাদুর দেশব্যাপী লক ডাউনের ঘোষণা করেছেন জনস্বার্থে। গত ১৪/০০৪/২০২১ইং থেকে লক ডাউন শুরু বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কর্মহীন হয়ে পরেছে মানুষ। নিঃস্ব থেকে নিঃস্বতর হচ্ছে গ্রামগঞ্জের ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের খেটে খাওয়া দিনমজুর পরিবারগুলো। তদ্রুপ দারুন অভাবের সম্মুখিন হওয়ার উপক্রম হয়ে পরছে শহর ও উপশহরের মধ্যবৃত্ত পরিবারগুলো।

যারা ভিক্ষাবৃত্তি এবং পরের উপরে নির্ভরশীল হওয়ার ইচ্ছা কখনই করেননা। এ মানুষগুলো না পারেন কারও কাছে হাত পাততে, না নিতে পারেন পাশের লোকের কোন সহযোগীতা। এরা সবসময় লোকলজ্জা ও আত্মমর্যাদায় সম্মান হানি হওয়ার ভয়ে নিরবে নির্ভৃতে প্রায় অনাহারে জীবন কাটিয়ে নিথর দেহে পরে থাকে নিজ গৃহে। এদের খোজ নেওয়ার লোকের খুব অভাব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনস্বার্থে দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করেছেন যা চলমান। স্থগিত হয়ে পড়েছে সমস্ত বাজারঘাট ও আয় রোজগারের উৎসগুলো। বিগত দিনে করোনাকালীণ অবস্থায় দেশের ৬/৭ মাস যাবত সকল এনজিওগুলো কিস্তির টাকা পরিশোধের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পবিত্র রমজান এবং লকডাউনের মধ্যে কোন এনজিও কিস্তি পরিশোধের বিষয়ে সরকারীভাবে কোন ঘোষণা না আসায় শাখের করাত হয়ে দাড়িছে সংশ্লিষ্ট এনজিও’র পরিচালক ও মাঠ কর্মিরা। মাঠ পর্যায়ে খেটে খাওয়া দিন মজুর মানুষগুলো অভাবের তারনা থেকে বাচার পথ বের না করতেই এনজিওদের কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে প্রচন্ড চাপ দিচ্ছে মাঠ কর্মীরা। পরিচালকের গালি শুনে তাদের চাকরি বাচাতে গ্রাহকদের উপর বাধ্য হয়ে চাপ সৃষ্টি করছেন মর্মে এনজিও কর্মীদের দাবি। কারন কিস্তির টাকা উত্তোলন করে বেতন নেওয়ার টার্গেট দেওয়া হয়। অন্যথায় ছাটাই। নিরুপায় মাঠকর্মী এবং গ্রাহকরা। শেষ পর্যন্ত এনজিওদের মহাজনী প্রথা রাজত্ব কায়েম করতে গ্রাহকদের উপর চলে স্টিম রোলার। ফলশ্রুতিতে পথে ঘাটে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে এনজিও কর্মীদের দ্বারা নাজেহাল হন অসহায় ও অভাবি মানুষগুলো।

এনজিওদের নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এনজিওগুলো কার্যক্রমের উপর নেতিবাচক সঠিক এবং সত্য কথা বলে থাকেন যা বাস্তব এবং সত্য কথন ও উপলব্ধায়ন। ঋণ কার্যক্রমাধীন এনজিওগুলো কিস্তির টাকা উত্তোলন ছাড়া কিছুই বোঝেন না। সামাজিক কার্যক্রম এমন আর কোন কিছুই নাই। যদিও ঋণের লভ্যাংশের একটি অংশ সমাজ সেবামূলক কাজে খরচ করার নিয়ম রয়েছে। আসলে এর কোন বালাই নেই। এনজিও পরিচালকরা সকলেই এখন কম-বেশি সুদখোর মহাজন। এ মহাজনী তান্ডব চালাতে গিয়ে গিয়ে ফরিদপুর এসডিসি’র দুই কর্মী তথা রাজিবুল এবং অভিজিৎ জোর যবরদস্থি ও খারাপ আচরনের মধ্যে কিস্তির টাকা তুলতে গিয়ে গ্রাহকদের হাতে খুন হয় নবাবগঞ্জ উপজেলার চুরাই তালতলা এলাকায়। জানা যায়, রাজিবুলের গ্রামের বাড়ি বোয়ালমারী, তার পিতার নাম গোলাম সরোয়ার শেখ, মাতা- জেসমিন বেগম, গ্রাম-গৌরিপুর এবং অভিজিতের বাড়ি নগরকান্দার তালমা ইউনিয়নে। এর মধ্যে অভিজিত একটি জেলে পরিবারের সন্তান।

দুটি পরিবার উচ্চ শিক্ষিত দুটি সন্তানকে হারিয়ে আজকে তারা পাগল প্রায়। দুটি সন্তানই দুটি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এদের পরিবারের আত্ম-চিৎকারের আওয়াজ শোনার মত কেউ নেই। বাংলাদেশ এমআরএ নিবন্ধনযুক্ত (গজঅ) প্রতিষ্ঠান সমূহ যে কার্যক্রম ঋণ দানের মাধ্যমে পরিচালিত করে বা সংগঠনগুলোর নিজস্ব ব্যক্তি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান যাহা নিজেদের দ্বারা পরিচালিত সমিতির কার্যালয়ে সদস্যদের দেওয়া চাঁদা হতেই পরিচালিত হয় সংগঠনটি। পাশাপাশি নামকাওস্তে পকেট কমিটি গঠন করে বছরের পর বছর আত্মীয় পরিজন ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সংস্থা পরিচালিত হয়। নেই কোন জবাবদিহিতা। স্থানীয় প্রশাসন এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গকে ম্যানেজ করে চলেন বড়ই আরাম আয়েশে। মাঝে মাঝেই এনজিওদের কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে কিস্তির টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে খুন যখমের শিকার হন।

দুঃখ জনক হলেও এনজিও পরিচালকরা আইনের ফাকফকর দিয়ে বের হয়ে আসলেও জীবন হারা কর্মীদের জীবনের মূল্য কখনও কেউ দিতে পারে না। নিঃস্ব হতে নিঃস্বতর হয়ে যায় ঐ পরিবারগুলো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বহু এনজিও কর্মীরা আক্ষেপ করে বলেন দেশের যৌনকর্মী, গার্মেন্টস কর্মী, হিজরা, বেদে, কায়ার, ফুয়ার, তাতী, জেলে, কুলি, হকারদের সংগঠন থাকলেও এনজিও কর্মীদের অধিকার আদায়ের বাস্তব কোন সংগঠন নেই। এনজিও কর্মীরা এতটাই নির্যাতিত এবং নিষ্পেশিত প্রতিনিয়ত এনজিও প্রধান যাতাকলে পেশান হচ্ছে এরা। এর একটি সুষ্ঠু সুরাহা প্রয়োজন। সময় এসেছে এদের মূল্যায়ন করার। এনজিও প্রতিষ্ঠান এবং প্রধানরা কতটাকা পুজি নিয়ে মাঠে নেমে তাদের এনজিও কার্যক্রম শুরু করেন এ ব্যাপারে সবাই অকিভাল। কার্যক্রম শুরু থেকেই মাঠে নেমে গরিব মানুষদের মধু মাখা কথা বলে কতশত হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছে তা ক্ষতিয়ে দেখা দরকার। যারা রাস্তায় হেটেবেড়াত কিংবা সাইকেল, রিক্সা, অটো ও মটর সাইকেলে ঘুরে বেড়াত এখন তারা দামি মডেলের গাড়ি ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিস ও বাসভবনে বসবাস করেন ফরিদপুরের বহু এনজিওর মালিকরা। এদের আয়কর তেমন কিছুই দিতে হয় না। শত শত কোট টাকার সম্পদের মালিক তারা।

ব্যাংক ব্যালেন্সও ভুরি ভুরি টাকা। ছেলে মেয়েদের বিদেশে রেখে পড়াশুনা করান। অথচ তাদের মুখে নীতিবাক্যের নতুন ও পুরানো কথা। “এদের মুখে শেখ ফরিদ আর বগলে ইট”। এনজিও মালিকদের জবাবদিহিতা স্বচ্ছতা এবং এনজিও কর্মী খুন যখম কথায় কথায় এনজিও কর্মীদের ছাটাই এবং এনজিও থেকে ঋণ গ্রহনকারী গরিব অসহায় জনগোষ্ঠির জন্য একটি শক্তিশালী নীতিমালা করার জোড়ালো দাবি উঠছে হত দরিদ্র জনগোষ্ঠি মাঝে। দাবিটি এমন যে, আন্ত মন্ত্রণালয়ে কমিশন/কমিটি গঠন করে দেশের বিরাজমান এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা উন্নয়নের নামে কি করছেন?

তা খবর দারি রাখার একটি শক্তিশালী টিম তৈরী করার জোড়ালো দাবির মধ্যে রয়েছে এনজিও গুলো স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, পররাষ্ট মন্ত্রণালয় যুক্ত করে একটি জাতীয় সুপারিশ মালার রূপরেখা করার জন্য মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন সকলে।

শেয়ার করুনঃ

Comments are closed.

© All rights reserved © 2020 | jhenuktv.com
Developed BY POS Digital