টিভি ব্রেকিংঃ
ঝিনুক টিভির পক্ষথেকে সকল দর্শকদের জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা। ঝিনুক টিভি আসছে নতুন নতুন সব আয়োজন নিয়ে। পাশেই থাকুন
সাংবাদিক রোজিনার মুক্তি চাইলেন- মির্জা ফখরুল

সাংবাদিক রোজিনার মুক্তি চাইলেন- মির্জা ফখরুল

প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে আটক রেখে নির্যাতন এবং গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

অবিলম্বে রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন। আজ মঙ্গলবার বিএনপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি করেন বিএনপির মহাসচিব। পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গেলে রোজিনা ইসলামকে সেখানে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ তাঁকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়। রাত পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ জানায়, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা হয়েছে। তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

আজ বেলা ১১টার একটু পরে রোজিনা ইসলামকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে নেওয়া হয়। ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম তাঁর রিমান্ড নাকচ করেন। তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এ ঘটনায় দেওয়া বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় প্রমাণ হয় বাংলাদেশে এখন আর স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং তথ্য পাওয়ার কোনো সুযোগ অবশিষ্ট নেই। রোজিনা ইসলাম একজন সিনিয়র সাংবাদিক। তাঁর অনেক অনুসন্ধানী ও সাহসী রিপোর্টে সরকারের বিশেষ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনেক দুর্নীতি, অনিয়মের খবর জনগণ জানতে পেরেছে। সে জন্য সরকার তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিল এবং নজরদারি করছিল।’

তিনি বলেন, ‘গতকাল পেশাগত কারণে তিনি (রোজিনা ইসলাম) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গেলে তাঁকে একা পেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্যায়ভাবে তাঁকে দীর্ঘ প্রায় ৬ ঘণ্টা আটকে রেখে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায় এবং গ্রেপ্তার করা হয়। একজন নারী সাংবাদিকদের ওপর সরকারি কর্মকর্তাদের এহেন আচরণ লজ্জাজনক এবং ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।’

বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এটা কোনো তুচ্ছ বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কর্তৃত্ববাদী শাসনে সাংবাদিক দলন এবং ভিন্নমত, সত্য প্রকাশ ও সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি প্রচারে সরকারের প্রতিবন্ধকতার এটি একটি উদাহরণ মাত্র। সাহসী ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকেরা যাতে আর সরকারের দুর্নীতি, লুটপাট, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার সংবাদ প্রকাশ করতে না পারেন, এ ঘটনার মাধ্যমে তাঁদের ভয় দেখানো হলো। সরকার ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে তাদের দুর্নীতি ও দুঃশাসনকে আড়াল করতে চায়।  ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকের ওপর নিষ্ঠুর আচরণের দায় সরকার এড়াতে পারে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিব এ ঘটনা জানলেও তারা রোজিনা ইসলামকে উদ্ধারে কোনো পদক্ষেপ নেয় নাই। উল্টো তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাদের নির্দেশেই রোজিনা ইসলামের ওপর এ নির্যাতন চালানো হয়েছে। এ জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবের পদত্যাগ দাবি করছি।’

বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব রোজিনা ইসলামের মুক্তি, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহার, তাঁকে আটক রাখাসহ নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবের পদত্যাগ এবং সাংবাদিক দলন-নিপীড়ন বন্ধ করে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সঠিক তথ্য পাওয়ার অধিকারে সরকারি হস্তক্ষেপ বন্ধেরও দাবি জানান।

শেয়ার করুনঃ

Comments are closed.

© All rights reserved © 2020 | jhenuktv.com
Developed BY POS Digital