টিভি ব্রেকিংঃ
ঝিনুক টিভির পক্ষথেকে সকল দর্শকদের জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা। ঝিনুক টিভি আসছে নতুন নতুন সব আয়োজন নিয়ে। পাশেই থাকুন
সাইবার হামলার শিকার ৮১% নারী প্রতিকার পাননি

সাইবার হামলার শিকার ৮১% নারী প্রতিকার পাননি

সাইবার হামলার শিকার ৮১% নারী প্রতিকার পাননি

বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ইশিতা জামান (ছদ্মনাম)। বছর দুয়েক আগে কেউ একজন সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে তাঁর নামে একটি ফেক অ্যাকাউন্ট খোলে। পরে সেই অ্যাকাউন্ট থেকে মেসেজ পাঠিয়ে তাঁর কাছে টাকা চাওয়া শুরু করে। টাকা না দিলে তাঁর ছবি এডিট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তখন তিনি বিষয়টি জানিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তবে থানায় অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি তিনি। কেননা সেই অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়নি। ওই ছাত্রী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ ঘটনায় মানসিকভাবে অত্যন্ত অশান্তির মধ্যে ছিলাম। প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।’  শুধু ওই ছাত্রীই নন, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বহু নারী প্রতিদিন সাইবার বুলিং বা অনলাইন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অথচ সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তেমন কোনো প্রতিকার পাননি। সম্প্রতি উন্নয়ন সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ফর সাসটেইনেবল গ্রোথ অ্যান্ড পলিসি অ্যাকশন ফাউন্ডেশনের (এএসজিপি) একটি গবেষণা জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

‘অ্যাপ্রেইজিং কমিউনিটি স্ট্রাগল অন সাইবার প্ল্যাটফর্মস’ শীর্ষক ওই গবেষণা জরিপ ঢাকা, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর ও রাজশাহী—এই চার জেলার ১৫-২৭ বছর বয়সী ৫০০ নারীর ওপর পরিচালিত হয় বলে এএসজিপি জানিয়েছে। এতে উঠে এসেছে, এই চার জেলার প্রায় ৮১ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নারীই কোনো না কোনো ধরনের সাইবার বুলিংয়ের শিকার হলেও সরকারি প্রশাসন ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো রকমের সহযোগিতা পাননি।

এএসজিপি জানিয়েছে, এই চার জেলার উত্তরদাতাদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা সাইবার বুলিং বা হয়রানির শিকার হয়েছেন; ৪০ শতাংশ বলেছেন হয়রানির শিকার হননি; আর ২৬ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা কখনো সাইবার হয়রানির শিকার হয়েছেন কি না জানেনই না। তবে গবেষণায় উঠে এসেছে, ৩২ শতাংশ উত্তরদাতার মধ্যে সাইবার হয়রানি সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিল না, ২১ শতাংশের মধ্যে সাইবার হয়রানি সম্পর্কে ধারণা রয়েছে আর ৩৮ শতাংশের মধ্যে সাইবার বুলিং নিয়ে অল্প ধারণা রয়েছে।

সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের সভাপতি কাজী মুস্তাফিজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রযুক্তির আরো উন্নতি করা প্রয়োজন। কারণ সাইবার হয়রানি প্রতিরোধে যতটুকু প্রযুক্তি উন্নতি করা জরুরি, এখনো ততটুকু করতে পারেনি। প্রযুক্তি আরো উন্নতি করে সাইবার হয়রানি প্রতিহত করতে হবে। সাইবারজগতে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়, তখন তাত্ক্ষণিক সেটা বন্ধ করা যায় না।’ তিনি বলেন, ‘সাইবার হয়রানি প্রতিরোধে পুলিশের আলাদা ইউনিট আছে। তবে সমস্যা হচ্ছে, অনেক পুলিশ কর্মকর্তাই সাইবার হয়রানি সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখেন না। ফলে এ ক্ষেত্রে অনেকেই যথাযথ প্রতিকার পান না। বেশির ভাগ পুলিশ কর্মকর্তা সাইবার অপরাধের তদন্ত কিভাবে করতে হবে, তা জানেন না। তাই যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আগেই একজন ভুক্তভোগীর ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে, আলামতও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

আইসিটি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল সিকিউরিটির সঙ্গে কাজ করছে ট্রেডওয়েভ টেকনোলজি নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এর পরিচালক জেনিফার আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা অন্য সাইটে ভাইরাল হওয়ার পর ভিকটিম থানায় অভিযোগ করতে যান। তাই অভিযোগকারীকে অ্যাকাউন্ট ও প্রয়োজনীয় সব তথ্য পুলিশকে অবগত করতে হবে। অনেকের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে হুমকি প্রদান করা হয়। তখন কিন্তু পর্যাপ্ত তথ্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে দিতে হবে। কারণ এগুলো ইচ্ছা করলেই বন্ধ করা যায় না, একটা নিয়মের মধ্যে এসে পুলিশ ব্যবস্থা নেয়।

শেয়ার করুনঃ

Comments are closed.

© All rights reserved © 2020 | jhenuktv.com
Developed BY POS Digital