টিভি ব্রেকিংঃ
ঝিনুক টিভির পক্ষথেকে সকল দর্শকদের জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা। ঝিনুক টিভি আসছে নতুন নতুন সব আয়োজন নিয়ে। পাশেই থাকুন
আকাশে বিমান দস্যুতার প্রথম হোতা ছিল ফ্রান্স, তারপর ইসরায়েল

আকাশে বিমান দস্যুতার প্রথম হোতা ছিল ফ্রান্স, তারপর ইসরায়েল

১৯৫৬ সালে মাঝ আকাশে অন্য দেশের যাত্রী বিমানের সাথে দস্যুর মত আচরণ প্রথম করেছিল ফ্রান্স ।

আলজেরিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলনের কজন নেতাকে আটক করতে ফ্রান্স যুদ্ধ বিমান পাঠিয়ে জোর করে একটি যাত্রী বিমানকে অবতরণ করিয়েছিল। ১৯৫৬ সালে ২২শে অক্টোবর আলজেরিয়ার স্বাধীনতাকামী এফএলএন-এর পাঁচজন নেতা – যাদের মধ্যে স্বাধীন আলজেরিয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট নেতা আহমেদ বেন বেল্লাও ছিলেন – আঞ্চলিক একটি সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি একটি যাত্রী বিমানে চড়ে মরক্কোর রাজধানী রাবাত থেকে তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসে যাচ্ছিলেন ।

ফরাসী গোয়েন্দা বিভাগ খবরটি জেনে গিয়েছিল। যুদ্ধ বিমান পাঠিয়ে মাঝ আকাশে মরক্কোর বিমানটিকে জোর করে আলজেরিয়ার একটি সামরিক বিমান ঘাঁটিতে নামানো হয়। আলজেরিয়া তখন ফরাসী উপনিবেশ। আলজেরীয় রাজনীতিকদের ধরতে বিমান অপহরণের এই ঘটনায় প্রচণ্ড রেগে গিয়েছিল মরক্কো এবং তিউনিসিয়া। ফ্রান্সের কোনো শাস্তি তাতে হয়নি।

এরপর ইসরাঈল:

যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে জোর করে একটি যাত্রী বিমানকে অবতরণ করার দ্বিতীয় বড় ঘটনাটির হোতা ছিল ইসরায়েল। ১৯৭৩ সালের ১১ই অগাস্ট লেবাননের বইরুত বিমান বন্দর থেকে ইরাকি এয়ারলাইন্সের ভাড়া একটি লেবানিজ বিমান ৮১ জন যাত্রী নিয়ে ওড়ার কিছুক্ষণ পরই ইসরায়েলের দুটো যুদ্ধ বিমান লেবাননের আকাশ সীমায় বিমানটিকে জোর করে ইসরায়েলি শহর হাইফার কাছে একটি সামরিক বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করায়।

ফিলিস্তিনি গেরিলা নেতা জর্জ হাবাশ। তাকে ধরার জন্য ইসরায়েল ১৯৭৩ সালে একটি লেবানিজ যাত্রী বিমানকে জোর করে অবতরণ করিয়েছিল। ইসরায়েল খোলাখুলি বলেছিল ফিলিস্তিনি গেরিলা নেতা জর্জ হাবাশকে ধরার জন্য তারা এটি করেছে। তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোশে দায়ান বলেন, সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী পপুলার ফ্রন্ট ফর দি লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন (পিএফএফপি) নেতা জর্জ হাবাশকে ধরতে বইরুত থেকে বাগদাদ-গামী বিমানটিকে হাইফাতে নামানো হয়েছিল। তবে জর্জ হাবাশকে ইসরায়েল পায়নি, কারণ ঐ বিমানে তার বাগদাদ যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি এবং তার ডেপুটি সালাহ সালাহ শেষ মুহূর্তে যাত্রা বাতিল করেছিলেন যে খবর ইসরায়েলিরা তখনও পায়নি।

ইরাকি এয়ারওয়েজের মূল বিমানটি বৈরুতে পৌঁছুতে দেরি হওয়ায় লেবানিজ বিমানটি ভাড়া করা হয় – যে ঘটনায় মি হাবাশ হয়তো সন্দিহান হয়ে পড়েছিলেন। বিমানের লেবানিজ ক্যাপ্টেন জর্জ মাত্তা ইসরায়েলিদের নির্দেশ মেনে বিমানটি হাইফার বিমান ঘাঁটিতে নামান। অবতরণের পর বন্দুকের মুখে বিমানের ৭৪ জন যাত্রী এবং সাতজন ক্রুকে নামিয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দু ঘণ্টা পর বিমান ও সেটির যাত্রীদের আবারো ওড়ার অনুমতি দেয় ইসরায়েল। পরে যাত্রীরা সাংবাদিকদের জানান, বিমানের ভেতর তল্লাশির সময় ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের কাছে কিছু নামের তালিকা এবং ছবি ছিল। যাত্রীদের ভেতরে ছিলেন ইরাকি পরিকল্পনা মন্ত্রী জাওয়াদ হাশেম। তিনি পরে বলেন, ইসরায়েলি গোয়েন্দারা জানতে চাইছিল যাত্রীদের মধ্যে কোনো ফিলিস্তিনি রয়েছে কিনা। “তারা আমাকেও জিজ্ঞেস করেছিল আমি কোনো গেরিলা কিনা।“ ঐ বিমানে যাত্রীদের সিংহভাগই ছিলেন লেবানিজ এবং ইরাকি। ঘটনায় প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছিল বিশেষ করে লেবানন।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তারা ‘বিমান দস্যুতার‘ অভিযোগ আনে। ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপর দাবি জানায়। লেবাননের তখনকার তথ্যমন্ত্রী ফাহমি শাহিন তখন বলেছিলেন নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের সাথে এর প্রতিকার নিয়ে তারা কথা বলছেন। ঘটনার পরদিনই বৈরুতে সমস্ত বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশ্যে লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবাদ লিপি পাঠানো হয়েছিল যেখানে বলা হয়, “গতরাতে যেভাবে একটি যাত্রী-বিমান ইসরায়েল জোর করে অবতরণ করিয়েছে সেটি “কোনা রাষ্ট্রের আচরণ নয়, বরঞ্চ গুন্ডাগিরি।“ ইসরায়েলকে বয়কট করার জন্য আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশনের কাছে আবেদন করে লেবানন।

শেয়ার করুনঃ

Comments are closed.

© All rights reserved © 2020 | jhenuktv.com
Developed BY POS Digital