টিভি ব্রেকিংঃ
ঝিনুক টিভির পক্ষথেকে সকল দর্শকদের জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা। ঝিনুক টিভি আসছে নতুন নতুন সব আয়োজন নিয়ে। পাশেই থাকুন
গণহত্যার দায় স্বীকার করে জার্মানি ও ফ্রান্সের

গণহত্যার দায় স্বীকার করে জার্মানি ও ফ্রান্সের

ইউরোপের সাবেক দু’ঔপনিবেশিক শক্তি-ফ্রান্স ও জার্মানি আফ্রিকায় তাদের অপরাধের দায় স্বীকার করেছে

১৮৯৪ থেকে ১৯১৫ সাল পর্যন্ত নামিবিয়া জার্মান ঔপনিবেশিক শাসনে ছিল। তখন ওই দেশের নাম ছিল জার্মান দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকা। এ ঔপনিবেশিক শাসনের সময় যে গণহত্যা সেখানে চালানো হয়, তাকে অনেক ঐতিহাসিক বিংশ শতাব্দীর ‘বিস্মৃত গণহত্যা‘ বলে বর্ণনা করেছেন। হত্যাকাণ্ড শুরু হয়েছিল ১৯০৪ সালে যখন হেরেরো ও নামা উপজাতি তাদের জমি ও গবাদিপশু দখলের বিরুদ্ধে জার্মান ঔপনিবেশিক শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করে।

ওই সময় নামিবিয়ায় জার্মানি সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন লোথার ফন ট্রোথা। তিনি ওই দু’উপজাতিকে নির্মূল করে দেয়ার নির্দেশ জারি করেন। তাদের বাড়ি-ঘর জায়গা থেকে উচ্ছেদ করে জোর করে দলে দলে মরু অঞ্চলে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কেউ যখনই তাদের জায়গা জমি বা বাড়িতে ফিরতে চেয়েছে, তখনই তাদের ধরে হয় হত্যা করা হয়েছে না হয় জেলখানায় ঢোকানো হয়েছে।

বহুদিন ধরে নামিবিয়া ওই গণহত্যার অপরাধ স্বীকার করে নিয়ে ক্ষতিপূরণের জন্য জার্মানির ওপর চাপ দিচ্ছে। পাঁচ বছর ধরে দু’সরকারের মধ্যে দেন-দরবারের পর শুক্রবার জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস এক বিবৃতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নেন যে নামিবিয়ায় গণহত্যা চালানো হয়েছিল। নামিবিয়া ও গণহত্যার শিকার মানুষদের উত্তরসূরিদের কাছে জার্মান সরকারের হয়ে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘জার্মানি তাদের ঐতিহাসিক ও নৈতিক দায় স্বীকার করছে এবং নামিবিয়ার জনগণ আর অপরাধের শিকার মানুষদের উত্তরসূরিদের কাছে ক্ষমা চাইছে।’ ১১০ কোটি ইউরো (১৩৪ কোটি ডলার) ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে জার্মানি। এ টাকা নামিবিয়ার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে খরচ করা হবে। অবশ্য আগামী ৩০ বছর ধরে এ টাকা দেয়া হবে।

তবে জার্মানি প্রথম কোনো সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি যারা তাদের অতীত অপরাধ ও তার ক্ষতিপূরণ নিয়ে আপস মীমাংসা করলো।

এদিকে, জার্মানি নামিবিয়ার তাদের ঐতিহাসিক অপরাধের দায় স্বীকার ও ক্ষমা প্রার্থনার আগের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ফ্রান্স প্রায় হঠাৎ তাদের সাবেক উপনিবেশ রোয়ান্ডায় ১৯৯৪ সালের ভয়াবহ গণহত্যার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ রোয়ান্ডার রাজধানী কিগালিতে গিয়ে দায় স্বীকার করেন, দুঃখ প্রকাশ করেন এবং রোয়ান্ডার জনগণের কাছে ক্ষমা চান।

কিগালিতে গণহত্যার স্মরণে নির্মিত যে সমাধিস্থলে গণহত্যার নিহত ২৫০,০০০ টুটসিকে কবর দেয়া হয়েছিল, সেখানে এক অনুষ্ঠানে ম্যাক্র বলেন, ‘আমাদের দায় স্বীকার করতে আমি এখানে হাজির হয়েছি… আমাদের ক্ষমা করে দিন।’ ১৯৯৪ সালে রোয়ান্ডার যে গৃহযুদ্ধে কমপক্ষে আট থেকে ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল-যাদের সিংহভাগই টুটসি জাতিগোষ্ঠীর- তাতে ফ্রান্সের ভূমিকা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক রয়েছে।

ওই সময় টুটসিদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিয়োজিত মিলিশিয়া রোয়ান্ডান প্যাট্রিওটিক ফ্রন্ট্রের (আরপিএফ) সাথে জড়িতদের শায়েস্তা করার জন্য হুতু-নেতৃত্বের সরকারকে নানাভাবে সাহায্য করেছে ফ্রান্স। শুধু সরকার নয়, ইন্তারহামওয়ে এবং ইম্পুযামুগাম্বি নামে সরকার সমর্থিত যে দুটো হুতু মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে গণহত্যা চালানোর জন্য দায়ী করা হয় তাদেরকেও অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিতে সাহায্য করতো ফ্রান্স।

১৯৯৪ সালের এপ্রিলে গুলিতে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ওই সময়কার প্রেসিডেন্ট জুভেনাল হাবিয়ারিমানা মারা যাওয়ার পর শুরু হয় সাধারণ টুটসিদের টার্গেট করে গণহত্যা। প্রায় ১০০ দিন ধরে চলা ওই হত্যাকাণ্ডে মানুষজনকে বাড়িতে, উপসনালয়ে ঢুকে হত্যা করা হয়েছে। স্কুলে ঢুকে শিশুদের হত্যা করা হয়েছে। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে প্রধান যে অভিযোগ তা হলো এমন একটি জাতিগত রক্তপাতের হুমকি তৈরি হয়েছে তা নিয়ে পরিষ্কার ইঙ্গিত থাকলেও তারা কিছুই করেনি।

গণহত্যার শেষ দিকে ‘সেফ জোন’ বা নিরাপদ জায়গা তৈরি করতে ফ্রান্স সৈন্য মোতায়েন করেছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে ওই সেফ জোন দিয়ে প্রধানত হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া হুতু মিলিশিয়ারা প্রতিবেশী জায়ারে পালিয়ে গিয়েছিল।

১৯৯৪ সালের লড়াইতে জিতে আরপিএফ রোয়ান্ডায় ক্ষমতা নেয়ার পর ফ্রান্সের সাথে সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকে। রোয়ান্ডার সমস্ত ফরাসি প্রতিষ্ঠান-স্কুল, সাংস্কৃতিক সংগঠন – বন্ধ করে দেয়া হয়। স্কুলে ফরাসির বদলে ইংরেজিতে পাঠদান শুরু হয়। এমনকি, কখনো ব্রিটিশ উপনিবেশ না হয়েও রোয়ান্ডা কমনওয়েলথের সদস্যপদ নেয়।

গত ২৭ বছর ধরে রোয়ান্ডার গণহত্যায় ফ্রান্সের ভূমিকা নিয়ে কোনো ফরাসি সরকার তেমন উচ্চবাচ্য করেনি। একারণে প্রেসিডেন্ট পল কাগামে বৃহস্পতিবার বলেন, ‘দায় স্বীকার করে ম্যাক্র ‘সাহস দেখিয়েছেন। তবে গণহত্যা থেকে রক্ষা পাওয়া মানুষদের প্রধান সংগঠন ইবুকা বলেছে ম্যাক্র স্পষ্ট করে ক্ষমা চাননি।

বার্তা সংস্থা এপি বলছে ফরাসি নেতার সফরের সময় কিগালির রাস্তায় তাকে স্বাগত জানাতে কোনো মানুষকে দেখা যায়নি।

শেয়ার করুনঃ

Comments are closed.

© All rights reserved © 2020 | jhenuktv.com
Developed BY POS Digital