টিভি ব্রেকিংঃ
ঝিনুক টিভির পক্ষথেকে সকল দর্শকদের জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা। ঝিনুক টিভি আসছে নতুন নতুন সব আয়োজন নিয়ে। পাশেই থাকুন
প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের ঘর পেয়ে ধর্মপাশায় মহাখুশীতে ৩০০ ভুমিহীন পরিবার

প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের ঘর পেয়ে ধর্মপাশায় মহাখুশীতে ৩০০ ভুমিহীন পরিবার

মজিব শতবর্ষ  উপলক্ষে অসহায় দরিদ্র ও ভূমিহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসাবে দেওয়া ঘর নির্মাণে অনিয়মের বিষয় নিয়ে সারাদেশে তোলপাড়  শুরু হলেও সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল খ্যাত ধর্মপাশায় ৩০০ ভূমিহীন পরিবার ওইসব ঘর পেয়ে তারা এখন মহাখুশীতে দিন কাটাচ্ছেন। যদিও  প্রথম দিকে নির্মাণকালীন সময়ে  কয়েকটি ঘরে কিছু ত্রুটি দেখা দিলেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষনিকভাবে ওই সব ঘরের ত্রুটিপূর্ণ স্থানগুলো মেরামত করে দেওয়া হয়। আর এরপর থেকেই  এ উপজেলায়  ঘরের ত্রুটির বিষয়ে উপকারভোগীদের কাছ থেকে আর কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

এক কথায় বলতে গেলে এখানকার – ৩০০ ভুমিহীন পরিবারই প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে দেওয়া ওইসব ঘর পেয়ে তারা এখন পরিবার নিয়ে শান্তিপূর্ণ ভাবেই জীবন যাপন করছেন।
গত মঙ্গলবার ও বুধবার দুইদিন উপজেলার জয়শ্রী  ইউনিয়নের শেখেরগাঁও,  গোপিনগর,  সিমের খাল ও মধ্যনগর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া, খালিশাকান্দা, জমশেরপুর, হরিপুর ও বৈঠাখালী এলাকায় সরজমিনে ঘুরে ও উপকারভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,  দীর্ঘদিন  যাবত তারা অন্যের বাড়িতে টিনের  ছালা ও প্লাষ্টিকের ত্রিপাল দিয়ে ছাপড়া বেঁধে পরিবারের লোকজনদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করে আসছিলেন। কিন্তু এখন তারা প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে দেওয়া ওইসব ঘর পেয়ে তারা এখন স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণ ভাবে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।

উপজেলার শেখেরগাঁও গ্রামের সুকেশ সরকার(৫৫) ও একই গ্রামের উপকারভোগী সবুজ মিয়া (৫০) বলেন, আমরা ভূমিহীন ।  আমাদের জমিজমা- বাড়িঘর বলতে কিছুই নেই। আমরা সারা জীবন অন্যের বাড়িতে প্লাষ্টিকের ত্রিপাল দিয়ে চাপড়া ঘর বেঁধে পরিবার নিয়ে দিন যাপন করে আসছিলাম।  আমরা দিন আইন্যা দিন খাই, কোনদিন কল্পনাও করিনি আমরা পরিবার নিয়ে পাকা ঘরে থাকতে পরবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  আমাদের মতো গরীবের মা।  তিনি আমাদেরকে এমন স্বপ্নের পাকা ঘর বানাইয়া দিছেন থাকার জন্য।
এখন আমরা দিনে একবার খাইলেও আমাদের কোনো  দু:খ নাই।  আমরা দোয়া করি আল্লাহ যেন গরীবের মা প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনাকে আরো শত বছর বাঁচিয়ে রাখেন। আর তিনি যতদিন বেঁচে থাকেন ততদিনই যেন আমরা তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চাই।  এসব কথা বলার এক পর্যায়ে তাঁরা দুইজনেরেই চোখ দিয়ে আনন্দশ্রু জড়ছিল।
উপজেলার মধ্যনগর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের উপকারভোগী  খোকন মড়ল বলেন, নতুন ভিটে মাটিতে ঘরের কাজ করায় নির্মাণকালে আমার ঘরটিসহ ৩টি ঘরের বারান্দায় কিছুটা ত্রুটি দেখা দিয়েছিল।  পরে ইউএনও স্যারেকে জানানোর পর তিনি সঙ্গেঁ সঙ্গেঁ লোকজন লাগিয়ে সে ঘর গুলি মেরামত করে দিয়েছেন।  এখন আমাদের ঘরের আর কোন সমস্যা নেই।

উপজেলার জয়শ্রী ইউপি চেয়ারম্যান  সঞ্জয় রায় চৌধুরী বলেন, আমার ইউনিয়নে ১৭৫ টি ভুমিহীন পরিবারকে মুজিববর্ষ  উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহার হিসেবে ঘর নির্মণ করে দেওয়া হয়েছে।  তবে ওই সব ঘর নির্মাণের পর ত্রুটি দেখা দিয়েছে বলে এমন কোন অভিযোগ কেউ আমার কাছে করেনি।  তিনি আরো বলেন, এ উপজেলায় আমার ইউনিয়নেই সবচেয়ে বেশী ভূমিহীন পরিবারকে পূনবার্সন করে দেওয়ায়  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ উপজেলা প্রশাসনকে  ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রজেশ চন্দ্র দাস বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে দেশের অসহায়, ভূমিহীন ও বাস্তুহারা পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে টেকসই বাড়িঘর নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এরই আলোকে মুজিব শতবর্ষে একজন মানুষও যাতে গৃহহীন না থাকে, প্রধানমন্ত্রীর এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য এ  উপজেলায় ৩০০টি পরিবার নতুন পাকা বাড়ি নির্মান করা হয়েছে । পরিবার প্রতি পাকাঘর বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে, প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। এবং প্রতিটি ঘরে বিশুদ্ধ পানির জন্য হস্তচালিত টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুতের মিটার সরবরাহ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন,  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের এ প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়নে আমরা আন্তরিক ভাবে কাজ করে যাচ্ছি।  তবে নতুন ভিটে মাটিতে ঘর নির্মাণকালীন সময়ে কয়েকটি ঘরে কিছুটা ত্রুটি দেখা দিলেও তাৎক্ষণিকভাবে সে গুলো মেরামত করে দেওয়া হয়। এবং আশা করি এক্ষেত্রে আমরা সফলতার সাথেই এ প্রকল্পের  কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি বলে আমি আশাবাদি।

শেয়ার করুনঃ

Comments are closed.

© All rights reserved © 2020 | jhenuktv.com
Developed BY POS Digital